Category Archives: Family
একটি শিশুর ভাবনা আর আমাদের রমযান মাস
একটু ভেবে দেখুন আপনার আশেপাশে যদি কোন শিশু থাকে তাহলে সে সারাদিন কি করে। সে খুব খুশি থাকে আশেপাশের সব ব্যাপার নিয়ে, এটা-সেটা ধরতে চায়। খুব কৌতুহলী কি করছে তার মা রান্নাঘরে। আর খাওয়ার টেবিলে ডালের থালা ধরে টান দেওয়ার জন্য ক্লান্তহীন চেষ্টা।
ব্যাপারটাকে জোড়া লাগানোর চেষ্টা করেছি একজন লেখকের একটি বক্তব্যের সাথে, তার মতে একটি শিশুর কাছ থেকে একজন বয়স্কের তিনটি জিনিস শেখার আছে।
১। খুশি হওয়া যে কোন কারণে (To be happy for no reason):
আমাদের খুশি হওয়া উচিত, কারণ এত সুন্দর একটি মাস আর এই মাসে এত মহিমাময় এক রাত্রি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের উপহার দিয়েছেন। সূরা কদর এর দুটি আয়াত উল্লেখ করলাম -
“শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন?” – وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ
“শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ” – لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ
আর এই মাসে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জান্নাতের সমস্ত দরজা খুলে দেন এবং বান্দাদের উপর রহমত বর্ষিত করতে থাকেন। আর এত কষ্ট করে একমাস পালন শেষে ঈদুল ফিতর যা এমন এক খুশির দিন, যে দিন ছোট-বড় আর ধনী-গরীব সবাই একসাথে আনন্দে মেতে উঠে। একবার একটু উপলব্ধি করুন যে এত সুন্দর উপহারগুলো আপনি অন্য কোনও মাসে পেয়েছেন কিনা। শিশুরাতো যে কোন কারণে খুশি হয়, কিন্তু আপনার কাছে রমযানের আগমনে খুশি হওয়ার অনেক কারন আছে। এই হাদিসটি পড়লে আপনার খুশি আরও কয়েক ডিগ্রী বেড়ে যাবে -
সাহল বিন সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: Read the rest of this entry
আমাদের সময়ের অংশীদারঃ ১ – ডিজিটাল জীবন ব্যবস্থা
আপনি কি কখনো হিসেব করে দেখেছেন আপনার সময়ের সবচেয়ে বেশী অংশ কিভাবে ব্যয় করেন আপনি যখন ঘরে বসে অবসর সময় কাটান?
আসুন এই লেখায় দেখি একটি সন্তান কি ভাবছে। একজন শিক্ষিকা তার ক্লাসে সবাইকে একটা ওপেন এন্ডেড রচনা লিখতে দিলেন। বাচ্চাদের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য শিক্ষকরা এরকম অনুশীলন দিয়ে থাকেন। যখন শিক্ষিকা বাসায় নিয়ে লেখাগুলো নিজে পড়ছেন এমন একটি লেখা তিনি পড়লেন যা পড়ে উনার চোখের পানি থামবার নামই নিচ্ছিলনা আর তখন উনার স্বামী লেখাটা নিলেন পড়ার জন্য – বিষয়ঃ টেলিভিশন।
“আমার নাম ইব্রাহীম, আমি পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। আমার বাসায় মা-বাবা ও ভাইবোন আছে, আমি তাদেরকে খুব ভালবাসি। আজ রাতে আমি আল্লাহ এর কাছে দুয়া করেছি আল্লাহ আমাকে তুমি ঐ টেলেভিশনের মতো বানিয়ে দাও। আমি এটার জায়গা নিতে চাই। আমি টিভি এর মতো আমার জীবন চাই। আমার জন্য একটি বিশেষ স্থান যেখানে আমার পরিবার আমাকে ঘিরে থাকবে। আমার কথা গুরুত্বের সাথে শুনবে কোনো বাঁধা বিপত্তি ছাড়া। আমাকে স্পেশাল কেয়ার নিবে যেটা আমার টিভি পায় যখন এটি নষ্ট থাকে। আমার বাবার সঙ্গ পায় যখন তিনি কাজের পর বাসায় আসেন অথবা তিনি যখন ক্লান্ত থাকেন এবং আমার মা আমাকে নিয়ে সময় কাটাবে যখন তাঁর মন খারাপ। এবং আমার ভাইবোনরা আমার সাথে সময় কাটানোর জন্য একে অন্যের সাথে লড়াই করবে। আমি চাই আমার পরিবার সব সময় আমার সাথে থাকবে এবং একইভাবে গুরুত্ব দিবে। সবশেষে আমি যেন তাদের আনন্দ আর খুশি দিতে পারি। আল্লাহ আমি তোমার কাছে বেশি কিছু চাইনা শুধু এই টেলিভিশন এর মতো হতে চাই।”
লেখাটি পড়ে উনার স্বামী বেশ আফসোস করে বলছেন “কি কষ্টেই না আছে এই ছেলেটি; আর এ কি ধরনের মা-বাবা”। তখন ঐ শিক্ষিকা বললেন “এই রচনাটি আমাদের সন্তানের লেখা!” কি আপনাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছি তাই না! Read the rest of this entry
কিবলার সাথে পরিচিতি
কথা বলছিলাম একজন মুরুব্বীর সাথে। তার মনের দুঃখ তার ছেলে নামাজ পড়ে না। শুনে খুব অবাক এবং খারাপ লাগল, কারণ সেই মুরুব্বীকে দেখি সবসময় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়েন এবং তাকে দেখে আমি নিজেই খুব অনুপ্রানিত। এই বয়সে সিঁড়ি বেয়ে দিনে পাঁচবার উঠানামা করা সত্যিই কঠিন। কথা বলতে গিয়ে বুঝতে পারলাম তিনি তার ছেলেকে ছোট বেলায় সাথে করে মসজিদে আনতে চাইতেননা, কারণ ছেলে ছোট তাই মসজিদে নিয়ে কি হবে এবং বাসায়ও তেমন একটা চাপ দিতেননা। এতে কি আসলে আমরা নিজের অজান্তে সন্তানদের ক্ষতি করে ফেলছিনা? আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলছেন –
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর” (সূরা আত-তাহরীম, আয়াত ৬)
আসলে মা-বাবার দায়িত্ব হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার সাথে তার সন্তানকে পরিচয় করিয়ে দেয়া, আর এক্ষেত্রে নামাজ ছাড়া উত্তম আর কি হতে পারে? Read the rest of this entry
