Author Archives:

“বোস্তামী কাছিম” কাহিনী

আমাদের দেশে বিভিন্ন মাজারকে কেন্দ্র করে অনেক রকম লোককথা প্রচলিত আছে। এসব কথায় প্রভাবিত হয়ে কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ “ধর্মীয় কাজ” মনে করে নানা রকম আপত্তিকর কাজ করে থাকেন। চট্টগ্রামের “বোস্তামী কাছিম”-এর নাম শোনেননি এমন লোক মনে হয় বাংলাদেশে পাওয়া যাবে না। এই কাছিম শুধুমাত্র একটি বিশেষ মাজারেই পাওয়া যায় বলে অনেকের ধারণা। আসলেই কি তাই?

দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে এই “বিশেষ কাছিম” বাংলাদেশ এবং ভারতের আসামে নদীতেও পাওয়া যায়। আসুন তাহলে পড়ি ইফতেখার মাহমুদ-এর লেখা প্রতিবেদনটিঃ

শত বছর ধরে ধারণা ছিল Read the rest of this entry

ঈদের দিনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা

রমাদান মাসটা দেখতে দেখতে চলেই গেল। এই একটি মাসের জন্য দুই শ্রেণীর লোক সারা বছর ধরে অধীর অপেক্ষায় থাকেন – দোকানদার আর ইমানদার। অধিকাংশ দোকানদারের জন্য রমাদান হলো ব্যবসার মূল মৌসুম। ঈদকে সামনে রেখে তারা এই মাসে তাদের সমস্ত পুজি বিনিয়োগ করেন, দরকার হলে ধার-কর্জ করে হলেও ব্যবসায় টাকা খাটান। তাদের এই পরিশ্রমের ফল তারা ঈদের ঠিক  আগেই পেয়ে যান।    

রমাদান মাসে একজন ইমানদারের জন্য বিনিয়োগটা একটু অন্যরকম। তিনি তার সময়, শারীরিক সামর্থ আর আর্থিক সম্পদকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় ব্যয় করেন। তার রমাদানের দিনগুলো কাটে রোযা রেখে আর রাতগুলো কাটে নামায আর আল্লাহর স্মরণে। তিনি অন্য মাসের চেয়ে এই মাসে বেশি বেশি করে দান করেন, বেশি করে কুরআন তিলাওয়াত করেন। ইমানদারও তার প্রচেষ্টার জন্য প্রতিদানের আশা রাখেন, তবে এই দুনিয়াতে নয়, আখিরাতে।

আর কোন ইমানদার যদি একইসাথে দোকানদারও হন তবে তো সোনায় সোহাগা! এই দুনিয়াতেও লাভ, আখিরাতেও লাভ।  

০০০

আপনি এমন কোন দোকানদারকে কি দেখেছেন যিনি শুধু রমাদান মাসে দোকানদারি করেন আর সারা বছর ঘুমিয়ে কাটান? বা মন চাইলে সপ্তাহে শুধু একদিন দোকান খোলেন? অথবা দিনে মাত্র এক বেলা দোকান খোলা রাখেন?

প্রত্যেক প্রতিষ্ঠিত দোকানদারই সারা বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে যান। বাকী এগার মাসের লাভের টাকা রমাদান মাসের জন্য পুজি হিসেবে বিনিয়োগ করেন। আর এই পুজির জোরেই তিনি রমাদানের বাড়তি লাভটুকু তুলে আনেন।  

একজন দোকানদার তার ব্যবসার ব্যাপারে যতটুকু সিরিয়াস আমরা আমাদের ইমানের ব্যাপারে কি ততটুকু সিরিয়াস হতে পেরেছি? Read the rest of this entry

হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ একটি রাত

১৯৯৪ সালের জুলাই মাসের কথা। ক্যালিফোর্নিয়ার রোজ বোল স্টেডিয়ামে চলছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা। মুখোমুখি হয়েছে রোমারিওদের ব্রাজিল আর ব্যাজ্জিওদের ইতালি। পৃথিবীর অপর প্রান্তে আমি বুদ হয়ে বসে আছি টেলিভিশন স্ক্রিনের সামনে। নির্ধারিত নব্বই মিনিটের খেলা শেষ হল। কোন দলই গোল করতে পারল না। খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে, তাতেও কোন মিমাংসা হল না। অবশেষে খেলা গড়াল পেনাল্টি শুট আউটে। ব্যাজ্জিও গোলপোস্টে বল না পাঠিয়ে বল পাঠিয়ে দিলেন আকাশের দিকে, আর পরোক্ষভাবে জিততে সাহায্য করলেন ব্রাজিলকে। চতুর্থবারের মত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হল ব্রাজিল।

ক্যালিফোর্নিয়াতে খেলা তো শেষ হল, আর এদিকে আমার এখানে রাত গড়িয়ে ভোর হয়ে গেল। নির্ঘুম একটি রাত কাটালাম ফুটবল খেলা দেখে। ঘুম আমাদের সবারই প্রিয়। তবে আমাদের ভালোবাসা বা আগ্রহের কাছে অনেক সময় সেই ঘুমও হার মানে। আমরা কেউ রাত কাটিয়ে দেই মুভি দেখে, কেউ স্প্যানিশ লা লিগা দেখে, কেউ আবার পছন্দের বই পড়ে। প্রেমিক-প্রেমিকাদের কথা আর নাই বা বললাম।

আবার অনেক সময় জীবিকার তাগিদে বা বিপদে পড়েও আমাদের রাত জাগতে হয়। আমার ইন্টারিমিডিয়েট পরীক্ষার আগের রাতগুলো ছিল ভয়ংকর, বিশেষ করে ফিজিক্স আর কেমিস্ট্রি পরীক্ষার আগে। সারা রাত জেগেও রিভিশন শেষ করা যাচ্ছিল না, এখনও মনে হতেই কেমন একটা লাগে!

আমরা যে কারণেই রাত জাগি না কেন, তা এটাই প্রমাণ করে যে বিষয়টি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। হোক তা শখের কারণে বা সিরিয়াস কারণে। আচ্ছা বলুন তো, একজন মুসলিমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী হওয়া উচিৎ? উলামাদের মতে তা হল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। একজন সত্যিকার মুসলিম আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসে, ফলে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও কুন্ঠাবোধ করে না। আমরা আল্লাহর জন্য কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করেছি? আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় আমরা কয়টি রাত নির্ঘুম কাটিয়েছি? Read the rest of this entry

একজন ক্রিকেট দর্শকের দৃষ্টিতে রমাদান পালন

আকরাম খান, বুলবুল বা ওদুম্বেদের কথা কি মনে পড়ে আপনাদের? কেমন উত্তেজনাপূর্ণই না ছিল দিনগুলো। বাংলাদেশ বনাম কেনিয়া। মনে হতেই নস্টালজিক একটা ভাব চলে আসে, তাই না? নাইরোবিতে ওদুম্বেদের কেনিয়ার কাছে হেরেই বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফি থেকে বাদ পড়েছিল। আর পরেরবার কুয়ালালুমপুরে ওদেরকে হারিয়েই বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফির চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। মনে পড়ে ১৯৯৭ সালের সেই দিনটির কথা? জাতি হিসেবে আমাদের জীবনে এমন আনন্দের দিন কমই এসেছে।

ওই সময়টাতে আমি টিভিতে প্রচুর ক্রিকেট খেলা দেখেছি, হোক তা টেস্ট বা একদিনের খেলা। সময়টাই ছিল ক্রিকেটময়। বাঙ্গালী যেমন সবকিছুতেই শর্টকাট বের করতে ওস্তাদ তেমনি আমিও ক্রিকেট খেলা দেখার জটিল একটা শর্টকাট বের করে ফেলেছিলাম। হয়ত আপনারাও করেছিলেন। বিষয়টা ছিল খুবই সিম্পল। খেলার প্রথম পনের ওভার আর শেষের দশ ওভার দেখো, বাকি সময়টা টিভি বন্ধ। প্রথম পনের ওভারে অনেক সুন্দর সুন্দর স্ট্রোক দেখা যেত, আর শেষ দশ ওভারে খেলার মিমাংসা হয়ে যেত। মাঝখানের পচিশ ওভার খামখা দেখার কি দরকার বলুন? ওটা তো ঝিমানোর সময়।

আসলেই কি তাই? Read the rest of this entry

শবে বরাত বিতর্ক

বছর পাচেক আগের কথা। চাকরির সুবাদে তখন আমি খুলনাতে থাকতাম। একই ফ্ল্যাটে আমার সঙ্গে থাকতেন আমারই বয়সী আরো দুইজন ভদ্রলোক। সেদিন ছিল শবে বরাতের রাত। মসজিদের লাউড স্পিকারগুলো থেকে ভেসে আসছে ওয়াজ, যিকর আর দুআর আওয়াজ। আশে-পাশের বাসা থেকে ভেসে আসছে মুখে জল আনা সব খাবারের গন্ধ। বেশির ভাগ পুরুষ মানুষ গেছেন মসজিদে। মহিলারা ব্যস্ত খাবার তৈরি আর পরিবেশনে, একটু পরে তারাও শুরু করবেন নফল ইবাদাত।

রাত সাড়ে নয়টা বাজতে তখন কয়েক মিনিট বাকী। আমার এক ফ্ল্যাটমেটকে একটু অস্থির দেখাচ্ছে। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন শবে বরাত বলে আদৌ কিছু আছে কি না। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বক্তাদের বিপরীতধর্মী কথাবার্তায় অন্যদের মতো উনিও খানিকটা কনফিউসড। আমি খুব কনফিডেন্স নিয়ে তাকে বলে দিলাম যে শবে বরাত বলে আসলে কিছু নেই, তাই এই রাতের বিশেষ কোন তাৎপর্যও নেই।

সর্বনাশ! যেই না বলা অমনি উনি সনি এন্টারটেইনমেন্ট টিভিতে টিউন করলেন। একটু পরেই যে শুরু হবে সুপার হিট শো ইন্ডিয়ান আইডল। পরবর্তী ঘন্টাখানাকের জন্য আমার ফ্ল্যাটমেট ডুবে গেলেন হিন্দি গানের জগতে। তখন নিজেকে কিছুটা হলেও দোষী মনে হতে লাগল। Read the rest of this entry

Poetry by Yacoob Manjoo: A Most Blessed Rooftop

[Cross-posted from: http://www.suhaibwebb.com/personaldvlpt/worship/hajj/a-most-blessed-rooftop/]

This piece was inspired by the author’s (Yacoob Manjoo) time in Madinah, on the rooftop of the Prophet Muhammad’s (peace be upon him) mosque, a few weeks prior to Hajj 2011. 

I like rooftops because they are freedom.

As I write this, I’m seated on one.
No ordinary one, mind you;
but one in a city of immense peace;
on top of a building so blessed that only one other is greater. Read the rest of this entry

আসছে ইবাদাতের মৌসুমঃ আপনি কি প্রস্তুত?

সেদিন রাতে আড্ডা দিচ্ছিলাম এক নিকটত্মায়ীয়ের সাথে। উনি একটা জুতার কোম্পানিতে কাজ করেন। তার সাথে আলাপচারিতায় জানলাম যে এখন ভালো ডিজাইনের জুতা বা জামা পাওয়া যাবে না, এর জন্য আরো মাসখানেক অপেক্ষা করতে হবে, কারণ সামনে আসছে ঈদের মৌসুম। কোম্পানি আর দোকানদার উভয়েই অপেক্ষা করছে ঈদ মৌসুমের জন্য।

ব্যবসায়ীরা তো প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের ব্যবসার মৌসুমের জন্য। আমরা যারা মুসলিম তারা কি প্রস্তুতি নিচ্ছি আমাদের ইবাদাতের মৌসুমের জন্য? এখন চলছে রজব মাস। আর দেড় মাস পরেই শুরু হয়ে যাবে রকমারি ইবাদাতে পরিপুর্ণ মাস – রমাদান। যদি প্রস্তুতি নেওয়া শুরু না করে থাকি, তবে এখনই সময়।

আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, রমাদানের আবার প্রস্তুতি কি? রমাদান তো প্রতি বছরই আসে। কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখুন তো, প্রস্তুতি ছাড়া কোন কাজ কি ঠিকমত করা যায়? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিন্তু ঠিকই রমাদানের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতেন। Read the rest of this entry

আমরা কি প্রস্তুত?

মে মাসের এক বিকেল। রিকশায় করে আমি মালিবাগ চৌধুরীপাড়া থেকে ফকিরেরপুলের দিকে যাচ্ছিলাম। তখন সাড়ে পাচটার মত বাজে। একটু পরেই অফিসফেরতা মানুষের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠবে রাজপথ। যাত্রা শুরুর পনের মিনিটের মধ্যেই মৌচাক মোড় পার হয়ে গেলাম। মালিবাগ মোড়ের সিগনালে আটকে আছি। হঠাৎ করেই চারপাশের সবকিছু অস্বাভাবিক লাগা শুরু করল। সামনে থেকে ভেসে আসছে অগণিত রিকশার টুং-টাং বেলের শব্দ আর গাড়ির হর্ন। মোড়ের লোকজন হাটার গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশের গাড়ির সাইরেনের শব্দও শোনা যাচ্ছে একটু দুর থেকে। যে যেভাবে পারছে সেখান থেকে তাড়াতাড়ি সরে পড়তে চেষ্টা করছে। আমি অসহায়ের মত বসে আছি রিকশায়, কখন সিগনাল ছাড়বে সেই অপেক্ষায়।

রিকশাওয়ালাও হয়ত কিছুটা অস্থির ছিলেন। তিনি বামদিক থেকে আস্তে আস্তে করে কাটিয়ে সামনের দিকে যেতে শুর করলেন। মোড়ে পৌছে সিগনাল ছাড়ার আগেই তিনি রিকশা সামনের দিকে টানা শুরু করলেন। আমার ডানদিকে তাকিয়ে দেখি মালিবাগ পোস্ট অফিসের সামনে একটি বাসে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। পরেরদিন হরতাল, তাই হরতালের পক্ষের বা বিপক্ষের কিছু অমানুষ বাসে আগুন দিয়েছে। এ কেমন অসভ্য রাজনীতি! রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক মুসলিমের জীবন, সম্মান ও সম্পত্তিকে পবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন। বাসে আগুন দিলে সম্পদের ক্ষতি তো হয়ই, সাথে থাকে মানুষের প্রাণনাশের আশঙ্কা। তারপরও দুআ করি যেন আল্লাহ এই অমানুষদেরও সঠিক পথের দিশা দান করেন। আর যদি তারা তার যোগ্য না হন তাহলে তিনি যেন তাদেরকে এই দুনিয়ায় এবং আখিরাতে কঠিন শাস্তি প্রদান করেন।

আমার রিকশা রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সামনে দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষজনের চোখে-মুখে তখনো এক অজানা আতঙ্ক, না জানি সামনে কি হয়! Read the rest of this entry

Cross-Post: Era of Revival – the Change Starts with You!

We often struggle to strike a balance between our religious and worldly responsibilities. This struggle is inevitable if we consider the definition of religion from a secular perspective. However, Islam is more than a “religion”; it is a way of life. As Muslims, our religious and worldly responsibilities should go hand in hand, one complementing the other. Ustadha Bint Ahmad discusses how to blend between these two:

Revive the true spirit of Islam through the 3 P’s

PRACTICING – PRODUCTIVE – PROSPEROUS

At the time when Muslim achievement is in a relapse, there is a need for change of Muslim attitudes. The prophetic teachings demonstrate Islam as a way of life. The discharging of religious obligations should increase your productivity in all aspects of life. Being practicing and productive are the two key ingredients to prosperity in the courtyard of Allāh subḥānahu wa ta'āla (glorified and exalted be He), The Most High. The predominant factor, which dictates the essence of achieving these three P’s, is a sound heart that is home to pure intentions. The acquisition of a pure heart is a gift from Allāh subḥānahu wa ta'āla (glorified and exalted be He), which will enable a person to maintain a balance in all walks of his life.

Islam is a living dimension encompassing the affairs related to all aspects of life, importantly: theology, worship, financial dealings, social etiquette, and purification of the heart. This automatically removes the implication normally associated with religion; that it is restricted to rituals, days and certain seasons of the year. It is clear that Islam is neither time-restricted nor bound to a place of worship; rather it is a complete system that deals with anything you will encounter in your life from the moment you enter until the time you depart from this world. The present situation invites Muslims to be religiously practicing and productive so as to become prosperous. This is especially relevant to the pursuit of further education where it is commonly thought that these elements are distinct; rather they are intertwined.

As Islam is a complete way of life, it has to be understood that Read the rest of this entry

এমনি এমনিই কি কিছু হয়?

“মানবজীবনের উদ্দেশ্য” সিরিজঃ প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্ব

ফেব্রুয়ারি মাসের সন্ধ্যা। একটু আগেই সূর্য ডুবেছে। পশ্চিম আকাশে দেখা যাচ্ছে গোধুলির আভা। মৃদুমন্দ বাতাস বইছে, মৌসুমের প্রথম দখিনা বাতাস। সুজন ও সুজানা দম্পতির ছাদে চলছে পার্টি। ওরা ওদের নতুন বাড়িতে উঠেছে, তাই এই বিশেষ পার্টির আয়োজন।

মাস দুয়েক হলো সুজন আর সুজানা তাদের নিজেদের ফ্ল্যাটে উঠেছে। আগে ওরা থাকত ভাড়া বাড়িতে। নিজের বাড়িতে থাকার স্বাধীনতাটাই অন্যরকম। কারণ, বাড়িওয়ালার কোন “অন্যায় আবদার” শুনতে হয় না, সারা দেয়াল পেরেক ফুটিয়ে ভরে ফেললেও কেউ কিছু বলে না।!

সুজন পেশায় একজন আর্কিটেক্ট, আর সুজানা একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। স্বভাবতই তারা অন্যদের চাইতে একটু বেশিই সৌখিন। তাদের ফ্ল্যাটটি দক্ষিণ-পূর্বমুখী, ফলে চাইলেই গরমকালে বারান্দায় বা শোবার ঘরে বসে উপভোগ করা যাবে অফুরন্ত দখিনা বাতাস। আবার সকালে একটু বেলা বাড়ার পর থেকেই থাকবে না কড়া রোদের ঝামেলা। ছয় তলা বিল্ডিং-এর টপ ফ্লোরে পড়েছে ফ্ল্যাটটি। কেনার সময়ই তারা ঠিক করেছিল যে, ছাদে তাদের ফ্ল্যাটের ঠিক উপরের অংশটি হবে এক্সক্লুসিভ। একান্তই নিজেদের। এজন্য জমির মালিক এবং নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। গুনতে হয়েছে অনেকগুলো বাড়তি টাকা।

ফ্ল্যাটটি মনের মতো করে গোছাতে ওরা সপ্তাহখানেক লাগিয়ে ফেলল। এরপর ওদের মনোযোগ গেল ছাদের দিকে। এক্সক্লুসিভ ছাদ বলে কথা! কী করা যায় এখানে? Read the rest of this entry

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 45 other followers