Author Archives:
চালু রাখুন আপনার সার্চ ইঞ্জিন শেষ দশ রাতের জন্যও
আমরা সবাই কখনো না কখনো গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনের সাহায্য নিয়েছি বিভিন্ন প্রজেক্টের কাজের সাপোর্টের জন্য। মজার ব্যপার হচ্ছে এই সব সার্চ ইঞ্জিনে খোঁজ করতে গিয়ে আমরা কিন্তু কখনো হতাশ হইনি। আমরা সেখান থেকে কিছু না কিছু প্রাসঙ্গিক জিনিস পেয়েই যাই, যা আমাদের যে কোনো প্রজেক্টের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অসাধারণ অবদান রাখে।
আপনি হয়ত মনে করতে পারেন এতে আপনার কোনো ভূমিকা নেই। আমি বলব কথাটি ভুল। কারণ প্রথমত আপনার উদ্যোগ, তারপর আপনার সময় যা আপনাকে সঠিক তথ্য খুঁজে বের করে আনতে সহায়তা করেছে এত মিলিয়ন/বিলিয়ন উপাত্ত থেকে। আর অবশেষে আপনি যা পেয়েছেন তা তো আর রেডিমেড কেক ছিল না, আপনাকে তা করে নিতে হয়েছে নিজের মত করে। আমি জানিনা আপনি এভাবে কখনো ভেবে দেখেছেন কিনা। আমাদের জীবনেও কিন্তু এইরকম একটা মাস আসে, যে মাসে আমাদেরকে খোঁজ করে বের করতে হয় এমন একটা সময় যা অনেক অনেক গুন বেশী মূল্যবান। রাত জেগে, কষ্ট করে না ঘুমিয়ে, আর ইবাদতের মাধ্যমে। সেটা হল রমযান মাসের এক বিশেষ রাত “লাইলাতুল-কদর”। Read the rest of this entry
একটি শিশুর ভাবনা আর আমাদের রমযান মাস
একটু ভেবে দেখুন আপনার আশেপাশে যদি কোন শিশু থাকে তাহলে সে সারাদিন কি করে। সে খুব খুশি থাকে আশেপাশের সব ব্যাপার নিয়ে, এটা-সেটা ধরতে চায়। খুব কৌতুহলী কি করছে তার মা রান্নাঘরে। আর খাওয়ার টেবিলে ডালের থালা ধরে টান দেওয়ার জন্য ক্লান্তহীন চেষ্টা।
ব্যাপারটাকে জোড়া লাগানোর চেষ্টা করেছি একজন লেখকের একটি বক্তব্যের সাথে, তার মতে একটি শিশুর কাছ থেকে একজন বয়স্কের তিনটি জিনিস শেখার আছে।
১। খুশি হওয়া যে কোন কারণে (To be happy for no reason):
আমাদের খুশি হওয়া উচিত, কারণ এত সুন্দর একটি মাস আর এই মাসে এত মহিমাময় এক রাত্রি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের উপহার দিয়েছেন। সূরা কদর এর দুটি আয়াত উল্লেখ করলাম -
“শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন?” – وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ
“শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ” – لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ
আর এই মাসে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জান্নাতের সমস্ত দরজা খুলে দেন এবং বান্দাদের উপর রহমত বর্ষিত করতে থাকেন। আর এত কষ্ট করে একমাস পালন শেষে ঈদুল ফিতর যা এমন এক খুশির দিন, যে দিন ছোট-বড় আর ধনী-গরীব সবাই একসাথে আনন্দে মেতে উঠে। একবার একটু উপলব্ধি করুন যে এত সুন্দর উপহারগুলো আপনি অন্য কোনও মাসে পেয়েছেন কিনা। শিশুরাতো যে কোন কারণে খুশি হয়, কিন্তু আপনার কাছে রমযানের আগমনে খুশি হওয়ার অনেক কারন আছে। এই হাদিসটি পড়লে আপনার খুশি আরও কয়েক ডিগ্রী বেড়ে যাবে -
সাহল বিন সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: Read the rest of this entry
নিজেই যখন ড্রাইভার (চালক)
শহরবাসীরা সাধারণত অনেকদিন শহরে থাকলে একটু শহরের বাইরে ঘুরে আসতে পছন্দ করেন। কারণ বেশিদিন এক পরিবেশে থাকলে জীববটা একঘেয়েমিপূর্ণ হয়ে ওঠাটাই স্বাভাবিক। অনেকে হয়ত নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে কক্সবাজার বা বান্দরবানের মত জনপ্রিয় জায়গায় একটু গ্রিন দেখতে যেতে পছন্দ করেন। তাই আমিও যাচ্ছিলাম ঢাকার বাইরে; তবে নিজে ড্রাইভ করছিলামনা; ভলভো বাসে করে যাচ্ছিলাম একটু গ্রিন দেখতে; ড্রাইভারের বিভিন্ন কার্যকলাপগুলো দেখছিলাম, তিনি কি করছেন তা; আঁকাবাঁকা পথ ধরে ড্রাইভিং করছেন, মাঝে মাঝে ব্রেক কষছেন, স্পীড হাই-স্লো করছেন, হর্ন দিচ্ছেন, রাস্তায় জ্যামে অসাড় হয়ে বসে আছেন, পেট্রোল পাম্প থেকে তেল ভরলেন এবং মাঝপথে খাওয়ার জন্য গাড়ি থামালেন ইত্যাদি।
অনেকদিন পর যখন ব্যপারটা মনে পড়ে গেল একটি প্রশ্ন মনে আসতে লাগল, গাড়ি চালাতে পারলেই কি কাউকে আমরা চালক বলব; নাকি আমরা সবাই ড্রাইভিং করছি? আসুন একটু অন্যভাবে দেখি ব্যপারটাকে, একজন চালক যেমন গাড়ির পরিচালনা করছেন তেমনিভাবে আমরা সবাই ড্রাইভার আর আমরা ড্রাইভ করছি নিজেদেরকে।
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সময়কে যদি রাস্তা ধরি আর জীবনটাকে ধরি একটা গাড়ি, তাহলে আপনি হচ্ছেন তার চালক। এখন একবার ভেবে দেখুন সঠিকভাবে ড্রাইভ করে সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে না পারলে আপনাকে কতইনা সমস্যায় পড়তে হবে। অদ্ভুত রিলেশেন মনে হতে পারে, আসুন ব্যপারটাকে আরেকটু লজিকাল ভাবে প্রমাণ করতে চেষ্টা করি। Read the rest of this entry
আপনি কোন গোলপোস্টে গোল করতে চান?
এখন ইউরো কাপ চলছে, তাই অনেকেই মেতে আছেন ফুটবল খেলা নিয়ে। এই সুযোগে আজ তাহলে একটু কথা বলেই ফেলি ফুটবল খেলা নিয়ে। আপনার মনে হতে পারে একটা ইসলামিক ব্লগে আমি ফুটবল খেলা নিয়ে কথা বলছি, এটা আবার কিভাবে এই ব্লগের উদ্দেশ্যের সাথে যায়? আচ্ছা ঠিক আছে, না হয় আমি ফুটবল খেলার ফলাফল নিয়ে কথা বললামনা, কিন্তু এই খেলার কিছু ভাল জিনিস নিয়ে অন্তত আমরা আলোচনা করতে পারি। আমি ফুটবল খেলায় যে মূল জিনিসটি দেখতে পাই তা হচ্ছে এই খেলায় “লক্ষ্য” মাত্র একটি। আর সবাই সেই লক্ষ্যের দিকে ছুটে চলে পাগলের মত অথবা সৃজনশীল ভাবে যাই বলেননা কেন; লক্ষ্যটা হচ্ছে “গোলপোস্ট”, আর মাধ্যম হচ্ছে “এট্যাক এবং ডিফেন্ড।” নব্বই মিনিটের খেলায় যে যত বেশি গোল করতে পারবে অথবা গোল ঠেকাতে পারবে সেই হবে বিজয়ী। সিম্পল ম্যাথ…!
শিক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে, মাত্র নব্বই মিনিটের এই খেলায় যখন লক্ষ্য এবং টেকটিকস অথবা স্ট্রেটেজী এইসব নিয়ে এত মাথা চুলকাতে (ভাবতে) হয়; তাহলে নব্বই বছরের (যদিও আমাদের গড় বয়স হচ্ছে ৬০ বছর) সমাপ্তিতে আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান তা নিয়ে লক্ষ্য, টেকটিকস এবং স্ট্রেটেজী নিয়ে নিশ্চয় ভাববার প্রয়োজনীয়তা আছে, আপনার কি মনে হয়? Read the rest of this entry
আমাদের প্রিয় অতিথিঃ আসুন এই অতিথিকে আন্তরিক স্বাগতম জানাই
আপনি যখন জানবেন আপনার খুবই পরিচিত এবং আপন একজন আপনার বাসায় আসছেন আর কিছুদিন আপনার সাথে থাকবেন আপনি কি করবেন? আপনি তার জন্য কত কিছুরই না ব্যবস্থা করবেন – তার থাকার ঘরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, তার পছন্দের সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা ইত্যাদি। অতিথির জন্য এই ধরনের পূর্বপ্রস্তুতির ব্যপারটি মানুষের একটি আন্তরিক স্বভাব বলা যেতে পারে।
তবে আমি এখানে এমন এক অতিথির কথা বলছি যার আসার ফলে আমাদের অনেকের জীবনেই আমূল পরিবর্তন আসে। অথবা বলা যেতে পারে এই অতিথিকে আলিঙ্গনের ফলে তা আমাদের জীবনে এমন এক সুবাস ছড়িয়ে দেয় যা আমাদের সাথে সবসময় রয়ে যায়। তবে এসব সম্ভব তখনই যখন আমরা আমাদের অতিথিকে তার যথাযথ মর্যাদা দিয়ে স্বাগতম জানাব।
আপনি কি ভাবছেন? আসলে আমি একটি পবিত্র মাসের ব্যপারে কথা বলব এই প্রবন্ধে। এখন হয়ত আপনি কিছুটা ধারণা করতে পারছেন আমি এতক্ষণ কি নিয়ে কথা বলছি।
হ্যাঁ; আমি কথা বলছি আরবী মাসের নবম মাস – রমজান মাস নিয়ে। রমজানের রোযা ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ২৯ অথবা ৩০ দিনের একটি মাস যা আমাদের জীবনে অতিথি হয়ে আসে; আর আমাদের অনেকের এই সাধারণ জীবনের মধ্যে ঘটিয়ে দেয় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। মূল পরিবর্তনের মধ্যে কিছু বলা যেতে পারে, যেমন: Read the rest of this entry
আমাদের সময়ের অংশীদারঃ ১ – ডিজিটাল জীবন ব্যবস্থা
আপনি কি কখনো হিসেব করে দেখেছেন আপনার সময়ের সবচেয়ে বেশী অংশ কিভাবে ব্যয় করেন আপনি যখন ঘরে বসে অবসর সময় কাটান?
আসুন এই লেখায় দেখি একটি সন্তান কি ভাবছে। একজন শিক্ষিকা তার ক্লাসে সবাইকে একটা ওপেন এন্ডেড রচনা লিখতে দিলেন। বাচ্চাদের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য শিক্ষকরা এরকম অনুশীলন দিয়ে থাকেন। যখন শিক্ষিকা বাসায় নিয়ে লেখাগুলো নিজে পড়ছেন এমন একটি লেখা তিনি পড়লেন যা পড়ে উনার চোখের পানি থামবার নামই নিচ্ছিলনা আর তখন উনার স্বামী লেখাটা নিলেন পড়ার জন্য – বিষয়ঃ টেলিভিশন।
“আমার নাম ইব্রাহীম, আমি পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। আমার বাসায় মা-বাবা ও ভাইবোন আছে, আমি তাদেরকে খুব ভালবাসি। আজ রাতে আমি আল্লাহ এর কাছে দুয়া করেছি আল্লাহ আমাকে তুমি ঐ টেলেভিশনের মতো বানিয়ে দাও। আমি এটার জায়গা নিতে চাই। আমি টিভি এর মতো আমার জীবন চাই। আমার জন্য একটি বিশেষ স্থান যেখানে আমার পরিবার আমাকে ঘিরে থাকবে। আমার কথা গুরুত্বের সাথে শুনবে কোনো বাঁধা বিপত্তি ছাড়া। আমাকে স্পেশাল কেয়ার নিবে যেটা আমার টিভি পায় যখন এটি নষ্ট থাকে। আমার বাবার সঙ্গ পায় যখন তিনি কাজের পর বাসায় আসেন অথবা তিনি যখন ক্লান্ত থাকেন এবং আমার মা আমাকে নিয়ে সময় কাটাবে যখন তাঁর মন খারাপ। এবং আমার ভাইবোনরা আমার সাথে সময় কাটানোর জন্য একে অন্যের সাথে লড়াই করবে। আমি চাই আমার পরিবার সব সময় আমার সাথে থাকবে এবং একইভাবে গুরুত্ব দিবে। সবশেষে আমি যেন তাদের আনন্দ আর খুশি দিতে পারি। আল্লাহ আমি তোমার কাছে বেশি কিছু চাইনা শুধু এই টেলিভিশন এর মতো হতে চাই।”
লেখাটি পড়ে উনার স্বামী বেশ আফসোস করে বলছেন “কি কষ্টেই না আছে এই ছেলেটি; আর এ কি ধরনের মা-বাবা”। তখন ঐ শিক্ষিকা বললেন “এই রচনাটি আমাদের সন্তানের লেখা!” কি আপনাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছি তাই না! Read the rest of this entry
কিবলার সাথে পরিচিতি
কথা বলছিলাম একজন মুরুব্বীর সাথে। তার মনের দুঃখ তার ছেলে নামাজ পড়ে না। শুনে খুব অবাক এবং খারাপ লাগল, কারণ সেই মুরুব্বীকে দেখি সবসময় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়েন এবং তাকে দেখে আমি নিজেই খুব অনুপ্রানিত। এই বয়সে সিঁড়ি বেয়ে দিনে পাঁচবার উঠানামা করা সত্যিই কঠিন। কথা বলতে গিয়ে বুঝতে পারলাম তিনি তার ছেলেকে ছোট বেলায় সাথে করে মসজিদে আনতে চাইতেননা, কারণ ছেলে ছোট তাই মসজিদে নিয়ে কি হবে এবং বাসায়ও তেমন একটা চাপ দিতেননা। এতে কি আসলে আমরা নিজের অজান্তে সন্তানদের ক্ষতি করে ফেলছিনা? আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলছেন –
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর” (সূরা আত-তাহরীম, আয়াত ৬)
আসলে মা-বাবার দায়িত্ব হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার সাথে তার সন্তানকে পরিচয় করিয়ে দেয়া, আর এক্ষেত্রে নামাজ ছাড়া উত্তম আর কি হতে পারে? Read the rest of this entry
আমরা কি সবকিছু বুঝে পড়ি ?
একদিন এক মসজিদে নামাজ পড়তে গেলাম সেইখানে আমার পাশে এক মুস্লল্লী খুব সুন্দর কুরআন তেলাওয়াত করছেন, তিনি সূরা ইয়ুসুফ এর কিছু অংশ তেলাওয়াত করলেন। অসাধারণ তেলাওয়াত শুনে আমরা আশেপাশে সবাই মুগ্ধ। এর মধ্যে একজন বুজুর্গ সেই মুসল্লীকে বললেন “আপনি খুব সুন্দর তেলাওয়াত করেছেন কিন্তু আপনিতো ইয়ুসুফ (আঃ) কে কুয়াতে ফেলে রাখলেন উনাকে কুয়া থেকে বের করলেন না কেন”। আসলে এর মধ্যেমে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন কুরআনের অর্থ বুঝে পড়লে তেলাওয়াতে যেমন পরিপূর্ণ রুপ দেওয়া যায় তেমনি এর থেকে অনেক সুফল নেওয়া যায়।
প্রতিদিন আমাদের অনেক কিছুই পড়তে হয়; যা আমাদের শুধু পড়লেই হয়না তা বুঝে আমাদের অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। উদাহারনস্বরূপ যিনি ইংলিশ স্পোকেন ক্লাশ করছেন তার কাছে ইংরেজী সংবাদপত্র পড়ে শব্দতালিকা তৈরী এবং তা বুঝার চেষ্টা করা। একজন গবেষকের কাছে বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত গুলোর ফলাফল পড়ে তা থেকে বুঝার চেষ্টা করা পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে। এইরকম আরও অনেক উদাহারণ দেওয়া যাবে যা থেকে খুব সহজেই প্রমানিত হয় মানুষ সবকিছু বুঝতে চেষ্টা করে। এটিকে তাহলে আমরা মানুষের মস্তিষ্কের একটি সাধারণ প্রক্রিয়া বলতে পারি। কিন্তু কুরআন বুঝার বেলায় আমরা কেমন যেন উদাসীন। আমাদের দেশে যদি জরিপ চালানো হয় তাহলে দেখা যাবে ৯৫% বাসায় বাংলা অথবা ইংরেজী অর্থসহ কুরআন পাওয়া যাবেনা। অথচ বাইরের দেশে অনেক অমুসলিমরা এই কুরআন এর অর্থ বুঝে তার থেকে অনেক উপকার পাচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং আরও অনেক কিছুতে। Read the rest of this entry
জুম’আর নামায হতে পারে আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের অনুপ্রেরনা
আমরা সাধারণ মুসলিমরা প্রতিদিন অনেক ভাল কাজ করি, যেমন আমাদের পরিচিতদের আমারা সালাম দেই, মা বাবার সাথে ভাল ব্যবহার করি, জুম’আর নামায পড়ি, দানখয়রাত করি। আমাদের এই ভাল কাজগুলোকে সবার সামনে তুলে ধরাটাই হচ্ছে এই লেখার মূল উদ্দেশ্য। আর এর মাধ্যমে আমি চেষ্টা করব সাধারণ মুসলিমদেরকে আর একটু ভাল অথবা প্র্যাকটিসিং মুসলিম হয়ে গড়ে উঠতে সাহায্য করতে। আর মাধ্যম হচ্ছে আমরা যে ভাল কাজগুলো করি সে কাজগুলোকেই তাদের সামনে প্রতীয়মান করার দ্বারা। এই ভাল কাজগুলোকে নিয়ে আমার এই ধারাবাহিক প্রবন্ধে কাজ করব ইনশাল্লাহ্, যার মাধ্যমে আমরা আমাদের মূল লক্ষ্য স্থির করে মুসলিম জীবনের প্রকৃত সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হতে পারি।
লেখাটি একটি ঘটনা দিয়ে শুরু করলে হয়ত আপনাদের ভাল বুঝাতে পারব। বন্ধের দিন আমরা বন্ধুরা সবাই মিলে আড্ডা দেই। আর তাই এবার আমরা শুক্রবার দিনটিকে ঠিক করলাম সবাই একসাথে দেখা করব এবং কিছু কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করব বলে। যেহেতু আমরা সদ্য ইউনিভার্সিটি থেকে বের হয়ে কর্পোরেট জগতে প্রবেশ করেছি সেহেতু বুঝতেই পারছেন আমাদের কী নিয়ে কথা হতে পারে। চাকরি, বিয়ে, ঘরসংসার, প্রোমোশন এইসব রিয়েলিস্টিক ও রোমাঞ্চকর আলোচনাতে আমরা সবাই মেতে উঠলাম, তখন তা যেন থামতেই চাইছেনা। মজার কিংবা দুঃখের যাই বলেননা কেন, ব্যাপার হচ্ছে এই আড্ডার সন্ধ্যাতে আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম যে কিছুক্ষন পর ইশার নামাযের জন্য রওনা দেওয়া লাগবে। সবাইকে একসাথে পেয়ে আমি নামাযে যাওয়ার কথা বলে ফেললাম। আর তাতেই হয়েছে আমার কাল, সবাই আমাকে পেয়ে বসল এবং বলা শুরু করল “বেশ উপদেষ্টা হয়ে গেছ, তুমি যাও নামাযে, নিজের চরকায় তেল দাও” এবং এধরণের আরো অনেক কথা।
বেশ ভালই লাগছিল তাদের কথা শুনতে, কারণ আমারও সময় আসবে। আর আমার কৌশল হচ্ছে “আগে বলতে সুযোগ দাও, তারপর আমি বলব।” Read the rest of this entry

