একজন ক্রিকেট দর্শকের দৃষ্টিতে রমাদান পালন
আকরাম খান, বুলবুল বা ওদুম্বেদের কথা কি মনে পড়ে আপনাদের? কেমন উত্তেজনাপূর্ণই না ছিল দিনগুলো। বাংলাদেশ বনাম কেনিয়া। মনে হতেই নস্টালজিক একটা ভাব চলে আসে, তাই না? নাইরোবিতে ওদুম্বেদের কেনিয়ার কাছে হেরেই বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফি থেকে বাদ পড়েছিল। আর পরেরবার কুয়ালালুমপুরে ওদেরকে হারিয়েই বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফির চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। মনে পড়ে ১৯৯৭ সালের সেই দিনটির কথা? জাতি হিসেবে আমাদের জীবনে এমন আনন্দের দিন কমই এসেছে।
ওই সময়টাতে আমি টিভিতে প্রচুর ক্রিকেট খেলা দেখেছি, হোক তা টেস্ট বা একদিনের খেলা। সময়টাই ছিল ক্রিকেটময়। বাঙ্গালী যেমন সবকিছুতেই শর্টকাট বের করতে ওস্তাদ তেমনি আমিও ক্রিকেট খেলা দেখার জটিল একটা শর্টকাট বের করে ফেলেছিলাম। হয়ত আপনারাও করেছিলেন। বিষয়টা ছিল খুবই সিম্পল। খেলার প্রথম পনের ওভার আর শেষের দশ ওভার দেখো, বাকি সময়টা টিভি বন্ধ। প্রথম পনের ওভারে অনেক সুন্দর সুন্দর স্ট্রোক দেখা যেত, আর শেষ দশ ওভারে খেলার মিমাংসা হয়ে যেত। মাঝখানের পচিশ ওভার খামখা দেখার কি দরকার বলুন? ওটা তো ঝিমানোর সময়।
আসলেই কি তাই? হয়ত ব্যাপারটি আদৌ তেমন নয়। খটকা লাগছে? তাহলে একটু বুঝিয়েই বলি।
প্রথম দিকে একটি দল যতই ভাল খেলুক না কেন, যে কোন সময় তাদের ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটতে পারে। পরপর ২-৩ টি উইকেট পড়ে গেলেই কিন্তু খেলার চেহারা পাল্টে যেতে সময় লাগে না। এই সময় তাই দরকার দক্ষ ব্যাটসম্যান যারা এই কঠিন সময়টুকুতে দলকে উদ্ধার করতে পারেন। অরবিন্দ ডি সিলভা, রাহুল দ্রাবিড় বা ইনজামামুল এভাবে কতবারই না তাদের দলকে টেনে নিয়ে গেছেন, তাই না?
অথবা ধরুন ফিল্ডিং করতে এসে কোন দল প্রতিপক্ষের হাতে চরম ধোলাই খেয়ে বসল। তখনও কিন্তু খেলার মোড় ঘুরে যেতে পারে মাঝখানের এই পচিশ ওভারেই। মুত্তিয়া মুরালিধরন, শেন ওয়ার্ন বা সাকলাইন মুশতাক কত ম্যাচেই না খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন।
বোঝাই যাচ্ছে যে শুধু প্রথম বা শেষ নয়, মাঝখানটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরভাবে শুরু করেও শেষটা খারাপ হতে পারে যদি মাঝখানে কোন বড় গলদ থাকে। আবার শুরুটা অত ভাল না হলেও শেষটা অসাধারণ হতে পারে মাঝখানের কিছু চমতৎকার কাজের মাধ্যমে।
এখন চলছে রমাদান মাস। এই মাসের শুরুতে লোকজনের মাঝে আমরা চরম ধর্মীয় উদ্দীপনা লক্ষ করেছি। মসজিদগুলোতে প্রতি ওয়াক্তের নামাযেই মানুষ উপচে পড়েছে। মিউজিক স্টোরগুলোতে জনপ্রিয় গানের বদলে বেজেছে কুরআন তিলাওয়াত বা ইসলামি গান। ব্যক্তিগতভাবে সবাই চেষ্টা করেছেন সাধ্যের মধ্যে এই মাসে যত বেশি ইবাদাত করা যায় তা করতে।
এভাবেই আমরা বর্তমানে রমাদানের মাঝামাঝি সময়ে চলে এসেছি। ক্রিকেট দর্শকের মতো রমাদান নিয়ে আমাদের উদ্দীপনা ঢিলা হয়ে যায়নি তো? মসজিদে তারাবীতে এখন কিন্তু মুসল্লি কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে সন্ধ্যার পরেই অনেকে ছুটছে মার্কেটের দিকে। আমরা রমাদানের ইবাদাতের চাইতে ঈদের কেনাকাটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি না তো?
ক্রিকেটের শেষ দশ ওভারে যেমন আক্রমনাত্নক ব্যাটিং করতে হয়, তেমনি রমাদানের শেষ দশ দিনেও আমাদের ইবাদাতের পরিমাণ অনেক গুন বাড়িয়ে দিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাদানের শেষ দশ দিন পার্থিব সমস্ত কাজ থেকে ছুটি নিয়ে মসজিদে ইতিকাফে বসে যেতেন। রমাদানের শেষ দশ রাত তিনি নিজে তো ঘুমাতেন নাই, এমনকি তার পরিবারকেও জাগিয়ে রাখতেন। লাইলাতুল কদরের মর্যাদা পেতে আমাদেরকেও সামনে নির্ঘুম দশটি রাত কাটানোর চেষ্টা করতে হবে।
মিডল অর্ডার কলাপ্স করলে কোন ব্যাটিং টিম যেমন টেইল এন্ডার দিয়ে সচরাচর বেশি দূর যেতে পারে না তেমনি এখন আমরা যদি ঝিমিয়ে পড়ি তবে সম্ভবত রমাদানের শেষ দশকে আমরা তেমন কিছু করতে পারব না। এই সময়টা খুবই সাবধানে চলতে হবে। হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। আপনি কি রাহুল দ্রাবিড়ের মতো ঠান্ডা মাথায় এই সময়টুকু খেলে যাবেন নাকি মুরালির দুসরাতে আউট হয়ে যাবেন?
রমাদানের বিশেষ ইবাদাতসমূহে লেগে থাকুন। আপনি কি চাননা লাইলাতুল কদর পেতে? সমস্ত অলসতা ছেড়ে আসুন না লেগে থাকি। মাসের শেষে ঈদের দিন দেখবেন আপনি অন্য রকম একটা আনন্দ অনুভব করছেন। অন্তরের সেই আনন্দটাই হলো আসল আনন্দ। আল্লাহ আমাদেরকে রমাদানের সেই আনন্দের স্বাদ উপভোগের তৌফিক দিন।
Posted on অগাষ্ট 1, 2012, in Ramadan & Fasting and tagged Ramadan. Bookmark the permalink. 2 টি মন্তব্য.

:)
mohan allaha pakere akar ache…. apnar vule gechen musha nobi jokhon allaha ke bolen…
khoma korbe amar mone hoye apnader …gobeshonaye kichu vul ache!!! ar jodi ta na hoye
tahole amar janar vul ache…,,amara jokhon more jabo ar jokhon bichar hobe r ei bichar nijei
korben…ar ek ta kotha je khelar sathae takar sompokho thake mane har jit tar mane juaa r
r jua manei haram …. islam kono mongora kotha diye chole na…….bujte parlam